ঢাকা মহানগরী পূর্ব

রাজধানীতে পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরন


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এদেশে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য প্রকট। স্বাধীনতা পেলেও শোষণ-বৈষম্যের অবসান হয়নি। তিনি আজ রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখার উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনাথ ও পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মহানগরী সভাপতি এস আর মিঠুর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি তোফাজ্জল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হাসানুল বান্না। শিবির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বড় একটি স্বপ্ন ছিল শোষণ ও বৈষম্যের অবসান হবে, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে।কিন্তুু ৪৭ বৎসর পরও স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।লুটপাট ও গণতন্ত্রহীন রাজনীতির নিষ্পেষণে শ্রমিক, কৃষক, নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। ।আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে ধনী-গরিবের বৈষম্য। একদিকে সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে এক শ্রেণীর বিত্তবানদের হাতে, অপরদিকে শোষণ ও বঞ্চনার কষাঘাতে জর্জরিত হচ্ছে দরিদ্র মানুষের জীবন। শুধু মাত্র কিছুসংখ্যক সুযোগ-সন্ধানী দুর্নীতিবাজদের চোখ-ধাঁধাঁনো ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে।সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতিবাজদের ছত্রছায়ায় জবরদখল হয়ে যাচ্ছে সরকারী সম্পদ, লুট হচ্ছে সরকারী ব্যাংকের অর্থ, শেয়ার মার্কেটে চলছে দুর্বৃত্তায়ন। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সাধারন মানুষের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জাতীয় অঙ্গীকার ক্রমশঃই যেন ফিকে হয়ে আসছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ভাবে এদেশ পরনির্ভর হয়ে পড়েছে।মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য থেকে বর্তমান শাসক গোষ্ঠী অনেক দূরে সরে এসেছে। সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট স্থায়ী করতে ক্ষমতায় যাওয়ার বিকৃত কৌশলের প্রতিযোগিতা চলছে। তিনি বলেন,বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার একটি দেশ।এদেশে রয়েছে দেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তিতে জেগে ওঠার মত তরুণ সমাজ। প্রয়োজন শুধু তাদের নৈতিকতা সম্পন্ন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। ছাত্রশিবির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যেই সৎ যোগ্য আদর্শিক নাগরিক তৈরীর কাজ অব্যাহত রেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের অমূল্য সম্পদ তরুণ সমাজের মেধার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ, মেধা ও মননের সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারলে অল্প সময়েই জাতিকে একটি কল্যাণময় সমৃদ্ধ দেশ উপহার দেয়া সম্ভব। আমরা আশা করি, নিজস্ব জাতিসত্তা আগলে রেখে সমৃদ্ধি অর্জনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করতে তরুণ সমাজ সচেষ্ট হবে।